নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা

হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সকলে খুব ভালো আছেন। আপনারা অনেকেই নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা এবং নিম পাতা কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা এবং নিম পাতা কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। তো চলুন শুরু করা যাক। আমাদের ওবেসাইট ভিজিট করতে ক্লিক করুন

নিম পাতা
নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা- নিম পাতা কিভাবে খেতে হয়

নিম পাতার তেতো ভাব কমানোর উপায়

নিম পাতায় রয়েছে অসাধারণ কিছু গুণাবলী। মুখে ব্রণের দাগ দূর করা, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা, চুলের গোড়া শক্ত করা, দাঁতের মাড়ি শক্ত করা, হাড় শক্ত করা, পাচন তন্ত্রের উন্নতি, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টোরল কমানোসহ মুখের রুচি বৃদ্ধিতে এছাড়াও বিভিন্ন কাজে নিম পাতা ব্যবহার করা হয়। নিম পাতার এত্তসব উপকারিতা জানার পরেও অনেকে নিম পাতার তিতা ভাব এর কারনে নিম পাতা খেতে চান না বা খেতে পারেন না।

নিম পাতায় থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে নিম পাতার স্বাদ তিতা হয়ে থাকে। যারা নিম পাতার তেতো ভাবের জন্য নিমপাতা খেতে পারেন না তারা অবশ্যই নিম পাতার তেতো ভাব কমানোর উপায় খুঁজছেন। নিম পাতার তেতো ভাব একবারে দূর করা সম্ভব নয় তবে নিম পাতার তেতো ভাব কমানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। নিচে নিম পাতার তেতো ভাব কমানোর কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো:

  • অনেকক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে: নিম পাতা দীর্ঘক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার মাধ্যমে নিম পাতার তেতো ভাব কমানো যায়। নিম পাতা অনেকক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এর তেতো ভাব কিছুটা দূর হয়।
  • গরম পানিতে সিদ্ধ করা: গরম পানিতে নিমপাতা সিদ্ধ করলে এর তেতো ভাব অনেকটা কমে যায়।
  • মিষ্টি জাতীয় জিনিসের সাথে মিশিয়ে খেলে: নিমপাতা মিষ্টি জাতীয় জিনিসের সাথে মিশিয়ে খেলে এর তেতো ভাব কমানো যায়। যেমন: মধু, চিনি, মিশ্রি/চিনির শিরা। সবচেয়ে ভালো মধুর সাথে নিমপাতা মিশিয়ে খাওয়া এতে স্বাস্থ্যের ক্ষতি কম হয়। অর্থাৎ মধু, চিনি, মিশ্রি এসবের সাথে নিমপাতা মিশিয়ে খেলে নিমপাতার তেতো ভাব অনেকাংশেই কমানো যায়।
  • বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে নিমপাতা মিশিয়ে খাওয়া: অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের খাবারের সাথে নিমপাতা মিশিয়ে খেলে তেতো ভাবটা কমানো যায়। যেমন: বেগুন ও নিমের ঝোল ইত্যাদি। এভাবে খেলে নিম পাতার তেতো ভাব অনেকাংশেই কমানো যাবে।

নিম পাতা কিভাবে খেতে হয়

WHO বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিম গাছকে ২১ শতকের শ্রেষ্ঠ গাছ হিসেবে ঘোষণা করেছে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র নিম পাতাকে জাদুকরি পাতা বলে। অনেকেই বিভিন্ন রোগের সমাধানে নিম পাতা খেয়ে থাকেন। নিম পাতায় থাকা বিভিন্ন উপাদান অনেক রোগের সমাধান করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

বিভিন্ন রোগের সমাধানে নানা ভাবে নিম পাতা খাওয়া যায়। অনেক রোগের সমাধানে একইভাবে নিম পাতা খাওয়া উচিত নয়। এতে খুব একটা ভালো ফল পাওয়া যায় না। নিম পাতা খেতে হয় নিয়ম মেনে। সপ্তাহের সাত দিনে নিমপাতা খাওয়া যাবে না। এতে কিডনির সমস্যা হতে পারে। বিভিন্নভাবে নিম পাতা খাওয়া যায়। নিমপাতা কিভাবে খেতে হয় তা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • নিম পাতা বেটে বা পেস্ট করে খাওয়া যেতে পারে।
  • নিম পাতার রস খাওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে নিম পাতার রস খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
  • নিমপাতা চিনি, মধু ইত্যাদির সাথে মিশিয়ে খেলে কাশি উপশম হয়।
  • প্রতিদিন সকালে পাঁচটি গোলমরিচের সাথে ১০ থেকে ১২টি নিম পাতা মিশিয়ে বেটে বা পেস্ট করে খেলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে আসে। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে অনেক রোগ আপনা আপনিই সেরে যায়।
  • নিম পাতার গুড়া তৈরি করে নিমপাতা খাওয়া যায়। নিম পাতার গুড়া পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে পারেন।
  • নিম পাতার বড়ি তৈরি করে নিমপাতা খাওয়া যেতে পারে। নিম পাতার বড়ি তৈরি করে রোদে শুকিয়ে অনেক দিন সংরক্ষণ করে নিয়মিত খাওয়া যায়।

উপরোক্ত নিয়ম গুলো অনুসরণ করে আপনি নিমপাতা খেতে পারেন।

একজিমার জন্য নিমপাতা

একজিমা হচ্ছে এক ধরণের চর্মরোগ। ত্বকের প্রদাহ, ত্বকের লাল লাল ভাব, ফুসকুড়ি, চুলকানি এসব একজিমার কারণে হয়ে থাকে। একজিমা রোগ সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয় তবে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। একজিমা রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ত্বকের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। আরে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যেতে পারে নিম পাতা। অনেকেই একজিমার জন্য নিমপাতার ব্যবহার করে থাকেন।

নিম পাতার মাধ্যমে একজিমার চিকিৎসা করলে প্রাকৃতিক উপকার পাওয়া যায়। নিম পাতায় রয়েছে আ্যন্টি-ইনফ্লামেটরি, আ্যন্টি-অক্সিডেন্ট, আ্যন্টি-ব্যাকটেরিয়াল, আ্যন্টি-ফাঙ্গাল যা  ত্বকের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং তাদের কোষ উন্নত করে। এসব উপাদান একজিমার সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করে। একজিমার জন্য নিম পাতার ব্যবহার বিভিন্ন রকমভাবে করা যেতে পারে তা নিচে তুলে ধরা হলো:

  • নিম পাতার পেস্ট: নিম পাতা সংগ্রহ করে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিম পাতা বেটে পেস্ট তৈরি করতে হবে এরপর একজিমা প্রদাহের স্থানে নিম পেস্ট লাগাতে হবে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট প্রদাহের স্থানে নিম পাতার পেস্ট লাগিয়ে রাখার পর ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • নিম পাতার রস খাওয়া: নিম পাতা সংগ্রহ করে ভালোভাবে ধুয়ে নিম পাতার পেস্ট তৈরি করতে হবে। নিম পাতার পেস্টের সাথে পানি মিশিয়ে নিমপাতার রস তৈরি করতে হবে। এই নিম পাতার রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে। নিম পাতার রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়। রক্ত পরিষ্কার হলে শরীরে একজিমার সংক্রমণ কমে যাবে।
  • নিম পাতার পানি দিয়ে গোসল: নিমপাতা ভালোভাবে পরিষ্কার করে পানিতে ফুটাতে হবে। তারপর সেই পানি দিয়ে নিয়মিত গোসল করতে হবে তাহলে শরীরে একজিমার প্রদাহ কমে যাবে একই সাথে সংক্রমণের হারও কমে যাবে।
  • নিম পাতার তেল ব্যবহার: বাজার থেকে নিম পাতার তেল কিনে অথবা ঘরোয়া পদ্ধতিতে নিম পাতার তেল তৈরি করে একজিমার প্রধান স্থানে মালিশ করতে হবে। এতে একজিমার প্রদাহ কমে যাবে।

 

গোসলে নিম পাতা যেভাবে ব্যবহার করবেন

নিম পাতার বিবিধ ব্যবহার রয়েছে। মানুষজন তাদের সমস্যা অনুযায়ী সমাধানের জন্য নিম পাতা ব্যবহার করে থাকেন। নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল। এসব উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী। এসব উপাদান ত্বকের কোষ পুনর্জীবিত এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

অনেকেই গোসলে নিম পাতা ব্যবহার করে থাকেন। আবার অনেকেই গোসলে নিম পাতা  ব্যবহার করার কথা ভাবছেন। কিন্তু বুঝতে পারছেন না গোসলে নিম পাতা কিভাবে ব্যবহার করবেন? চিন্তা নেই সমস্যার সমাধান আছে।

নিম পাতা
গোসলে নিম পাতার ব্যবহার

গোসলে নিমপাতা যেভাবে ব্যবহার করবেন: প্রথমে ভালো মানের নিমপাতা সংগ্রহ করবেন। এরপর নিম পাতাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিবেন। পরিষ্কার নিমপাতাগুলো পানির মধ্যে দিয়ে চুলায় গরম করবেন। পানি গরম হয়ে গেলে নিম পাতাগুলো পানি থেকে ছেঁকে নিবেন। তারপর যে পানি পাবেন সেই পানি দিয়ে গোসল করবেন। এভাবেই আপনি গোসলে নিম পাতা ব্যবহার করতে পারেন।

নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা

নিম পাতায় রয়েছে অসংখ্য উপকারি উপাদান। যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানের জন্য উপকারি। প্রায় আমাদের মুখে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: ব্রনের সমস্যা, মুখে দাগ, মুখে ব্ল‍্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস, মুখে ছোট-বড় গর্ত, ত্বকের শুষ্কতা, এলার্জি ইত্যাদি। সকল সমস্যার সমাধানে বাজারজাত পণ্য ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের উপকারের চেয়ে অপকারই  বেশি হয়। তাই আমরা অনেকেই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরোয়াভাবে এসব সমস্যাটির সমাধান করতে চাই।

নিম পাতা
নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা

মুখের বেশিরভাগ সমস্যার সমাধানে সর্বোত্তম উপায় নিমপাতা। নিম পাতায় রয়েছে ক্লিনজার আ্যন্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল উপাদান। নিম পাতা বেটে মুখে দিলে মুখের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হয়। নিম পাতা বেটে মুখে দিলে মুখে থাকা ব্রনের দাগ দূর হয়, ব্রণের সংক্রমণ কমে যায়, ত্বকের ব্ল‍্যাকহেডস, হোয়াইটহেডস দূর হয়, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়, মুখের ত্বক নরম এবং কোমল হয়, মুখের শুষ্কতা দূর হয়, মুখে ছোট বড় গর্ত পূরণ হয়, মুখের বলি রেখা দূর হয়, মুখের কালচে ভাব কমে যায়।

নিম পাতার ক্লিনজার ব্যবহার করা উত্তম। নিম পাতা ক্লিনজার ব্যবহার করার জন্য গরম পানিতে নিমপাতা দিয়ে সেই পানি সবুজ হওয়া পর্যন্ত ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর পানি ঠান্ডা হলে এটা বোতলে সংরক্ষণ করতে হবে। এই ক্লিনজার বিভিন্ন সময়ে মুখে ব্যবহার করা যাবে। নিমপাতা ক্লিনজার ব্যবহার করা হলে মুখের টোন বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি নিম পাতা বেটে মুখে দিলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।

দিনে কতটুকু নিমপানি পান করা উচিত

নিম আমাদের শরীর হতে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। নিম আমাদের হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে, রক্ত পরিষ্কার করে। তাই আমাদের মাঝে মধ্যে নিম পানি পান করা উচিত। তবে নিয়মিত নিম পানি বা নিম পাতা খাওয়া ক্ষতির কারণ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন নিম পানি পান করা উচিত নয়। এতে আমাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিম পানি খালি পেটে পান করা উচিত। দিনে কতটুকু নিম পানি পান করা উচিত এটি আপনার শরীর স্বাস্থ্যের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তবুও সাধারণত দিনে এক গ্লাস নিম পানি পান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।

লেখক এর শেষ কথা:

আমাদের দৈনন্দিনজীবনে নানা ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা আমাদের শারীরিক জীবনে বাধা সৃষ্টি করে। শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ জনিত সমস্যার সমাধানে আমরা নিম পাতা ব্যবহার করে থাকি। আবার ডায়াবেটিস রোগীরা নিমপাতা ব্যবহার করে তাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা এবং নিম পাতা কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আজকের এই পোস্টটিতে। আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে আমাদের এই পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আশা করছি নিম পাতা বেটে মুখে দেওয়ার উপকারিতা এবং নিম পাতা কিভাবে খেতে হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। যদি আপনার ইচ্ছা থাকে আপনার জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করার তাহলে অবশ্যই বিষয়গুলো আপনাকে জানতে হবে।

আশা করি আমাদের এই পোস্টটি থেকে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল পোস্ট যদি আপনি নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে। আবার দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে অবশ্যই সে পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন।

নিম সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি শাহরিয়ার জামান (আবির) পেশায় একজন শিক্ষার্থী এবং জামান আইটি ২৪ এর CEO।

Leave a Comment