হ্যালো বন্ধুরা, কেমন আছেন সবাই? আশা করি সকলে খুব ভালো আছেন। আপনারা অনেকেই কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। আজকে আমি আপনাদেরকে কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। তো চলুন শুরু করা যাক। আমাদের ওবেসাইট ভিজিট করতে ক্লিক করুন
ভূমিকা: কালোজিরার উপকারিতা
সাধারণত কালোজিরা নামে পরিচিত হলেও কালোজিরার আরো কিছু নাম রয়েছে, যেমন- কালো কেওড়া, রোমান করিয়েন্ডার বা রোমান ধনে, নিজেলা, ফিনেল ফ্লাওয়ার, হাব্বাটুসউডা, কালঞ্জি ইত্যাদি। কালোজিরার বৈজ্ঞানিক নাম হলো nigella sativa। তবে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, এই কালো বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা অপরিসীম। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিধন থেকে শুরু করে শরীরের কোষ ও কলার বৃদ্ধিতে কালোজিরার ভূমিকা অপরিমেয়। শুধু স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, কালোজিরা চুল এবং ত্বকের জন্যও বেশ উপকারি। প্রত্যেকের রান্নাঘরেই সচরাচর কালোজিরা থাকে যা খাবারকে সুবাসিত করে। আসুন আমরা আজ আশ্চর্য বীজ কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই।
কালোজিরার উপকারিতাসমূহ
স্মরণ শক্তি বৃদ্ধি:
এক চা-চামচ পুদিনা পাতার রস বা কমলার রস বা এক কাপ রঙ চায়ের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দিনে তিনবার করে নিয়মিত সেবন করতে হবে। এটি দুশ্চিন্তা দূর করে। এছাড়া কালোজিরা মেধা বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালোজিরা নিজেই একটি অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিসেপটিক। মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে এটি। কালোজিরা খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে যথাযথভাবে রক্ত সঞ্চালন হয়। এতে করে মস্তিস্কের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি হয়। এটি আমাদের স্মৃতি শক্তি বাড়িয়ে তুলতেও সহায়তা করে।
মাথা ব্যাথা নিরাময়ে:
১/২ চা-চামচ কালোজিরার তেল মাথায় ভালোভাবে লাগাবেন এবং এক চা চামচ কালোজিরার তেল এক চা-চামচ মধুর সাথে মিশিয়ে দিনে তিনবার করে ২/৩ সপ্তাহ সেবন করবেন।
সর্দি সারাতে:
এক চা চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ৩ বার সেবন এবং রোগ সেরে না যাওয়া পর্যন্ত মাথায় এবং ঘাড়ে মালিশ করতে হবে। তাছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার সঙ্গে তিন চা-চামচ মধু এবং দুই চা-চামচ তুলসী পাতার রস মিশ্রণ করে খেলে জ্বর, ব্যথা, সর্দি-কাশি দূর হতে সহায়তা করে। সর্দি বসে গেলে কালোজিরা বেটে কপালে প্রলেপ আকারে দিয়ে রাখুন। একই সঙ্গে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে কালিজিরা বেঁধে নাকে শুকতে থাকুন, শ্লেষ্মা তরল হয়ে ঝরে পড়বে। আরো অল্পসময়ে ফল পেতে বুকে ও পিঠে কালিজিরার তেল মালিশ করুন।
বাতের ব্যাথা দূরীকরণে:
শরীরের ব্যাথা আক্রান্ত স্থান ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে মালিশ করবেন। এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল সমপরিমান মধু বা এক কাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেবন করুন।
বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ সারাতে:
আক্রান্ত স্থান ধুয়ে পরিষ্কার করে তাতে মালিশ করুন। এক চা-চামচ কাঁচা হলুদের রসের সাথে সমপরিমাণ কালোজিরার তেল, সমপরিমান মধু বা এককাপ রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেবন করুন।
হার্টের বিভিন্ন সমস্যার ক্ষেত্রে:
এক চা-চামচ কালোজিরার তেলসহ এক কাপ দুধ খান দৈনিক ২বার করে ৪/৫ সপ্তাহ এবং শুধু কালোজিরার তেল বুকে নিয়মিত মালিশ করতে পারেন, এতে হার্টের সমস্যায় অনেকটা উপকার পাবেন।
ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে:
প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোষ চিবিয়ে খেয়ে এবং সমস্ত শরীরে কালোজিরার তেল মালিশ করে সূর্যের তাপে কমপক্ষে আধাঘন্টা বসে থাকতে হবে এবং এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ প্রতি সপ্তাহে ২/৩ দিন সেব্য, যা ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়া কালোজিরা বা কালোজিরা তেল বহুমুত্র রোগীদের রক্তের শর্করার মাত্রা কমিয়ে দেয় এবং নিম্ন রক্তচাপকে বৃদ্ধি করে ও উচ্চ রক্তচাপকে হ্রাস করতে সহায়তা করে।
অর্শ রোগ নিরাময়ে:
এক চা-চামচ মাখন ও এক চা-চামচ কালোজিরার তেল প্রতিদিন খালি পেটে ৩/৪ সপ্তাহ সেবন করুন তাহলে অর্শ রোগ হতে অনেকটা মুক্তি পাবেন।
শ্বাস কষ্ট বা হাঁপানি রোগ সারাতে:
যারা এ্যাজমা, হাঁপানী বা শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন তাদের জন্য কালোজিরা অনেক উপকারী। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় কালোজিরার ভর্তা রাখুন। কালোজিরা খেলে হাঁপানি বা শ্বাস কষ্টজনিত সমস্যা উপশম হবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ দুধ বা রং চায়ের সাথে দৈনিক ৩ বার করে নিয়মিত সেবন করুন।
ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে:
ডায়াবেটিস রোগ উপশমে কালিজিরা বেশ কাজ করে থাকে। এক চিমটি কালিজিরা এক গ্লাস পানির সঙ্গে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেয়ে দেখুন, রক্তে গ্লকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল, এক কাপ রঙ চা বা গরম ভাতের সাথে মিশিয়ে দৈনিক ২বার করে নিয়মিত সেবন করুন। এটি ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে একশত ভাগ কাজ করে।
জৈব শক্তি বৃদ্ধির জন্য
কালোজিরা নারী-পুরুষ উভয়ের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে। প্রতিদিন খাবারের সাথে কালোজিরা খেলে পুরুষের স্পার্ম সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং পুরুষত্বহীনতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়। এক চা-চামচ মাখন, এক চা-চামচ জাইতুন তেল সমপরিমাণ কালোজিরার তেল ও মধুসহ দৈনিক ৩ বার করে ৪/৫ সপ্তাহ সেবন করুন। তবে পুরানো কালোজিরা তেল স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
অনিয়মিত মাসিক স্রাব বা মেহ/প্রমেহ রোগের ক্ষেত্রে:
এক কাপ কাঁচা হলুদের রস বা সমপরিমাণ আতপ চাল ধোয়া পানির সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল মিশিয়ে দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেবন করলে শতভাগ উপকার পাবেন।
দুগ্ধ দান কারিনী মায়েদের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য:
যেসব মায়েদের বুকে পর্যাপ্ত দুধ থাকে না, কালিজিরা তাদের জন্য মহৌষধ। মায়েরা প্রতি রাতে ঘুমানোর পূর্বে ৫-১০ গ্রাম কালিজিরা মিহি করে দুধের সঙ্গে খেতে থাকুন। মাত্র ১০-১৫ দিনে দুধের প্রবাহ বেড়ে যাবে। এছাড়া এ সমস্যা সমাধানে কালিজিরা ভর্তা করে ভাতের সঙ্গেও খেতে পারেন।এছাড়া এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দৈনিক ৩বার করে নিয়মিত সেবন করলে শতভাগ উপকৃত হবেন।
ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখে:
ত্বকের গঠনের উন্নতি ও ত্বকের প্রভা বৃদ্ধির জন্য কালোজিরা খাওয়া অত্যাবশ্যকীয়। এতে লিনোলেইক ও লিনোলেনিক নামের প্রয়োজনীয় ফ্যাটি এসিড থাকে যা পরিবেশের প্রখরতা, স্ট্রেস ইত্যাদি থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করে এবং ত্বককে সুন্দর করে ও ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সহায়তা করে। ত্বকের যত্নে নিম্নবর্ণিত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে পারেন:
- মধু ও কালোজিরার পেস্ট বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে আধাঘন্টা হতে একঘন্টা রেখে পরে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক উজ্জ্বল হবে।
- যদি আপনার ব্রণের সমস্যা থাকে, তাহলে আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। নিয়মিত লাগালে অবশ্যই ব্রণ দূর হবে।
- শুষ্ক ত্বকের জন্য কালোজিরার গুঁড়া ও কালোজিরার তেলের সাথে তিলের তেল মিশিয়ে ত্বকে লাগান। এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারবেন।
গ্যাষ্ট্রীক বা আমাশয় নিরাময়ে:
এক চা-চামচ কালোজিরার তেল সমপরিমাণ মধুসহ দিনে ৩ বার করে ২/৩ সপ্তাহ সেবন করুন, তাহলে গ্যাষ্ট্রীক ও আমাশয় হতে নিরাময় লাভ করবেন।
জন্ডিস বা লিভারের বিভিন্ন সমস্যার দূরীকরণে:
একগ্লাস ত্রিপলার শরবতের সাথে এক চা-চামচ কালোজিরার তেল দিনে ৩ বার করে ৪/৫ সপ্তাহ সেবন করুন তাহলে আপনার জন্ডিস বা লিভারের সমস্যা দূর হবে।
রিউমেটিক এবং পিঠের ব্যাথা দূর করার জন্য:
কালোজিরার থেকে যে তেল হয় তা আমাদের দেহে বাসা বাঁধা দীর্ঘমেয়াদী রিউমেটিক এবং পিঠে ব্যথা কমাতে বেশ সাহায্য করে। এছাড়াও সাধারণভাবে কালোজিরা খেলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি করতে কালোজিরা:
দুই বছরের অধিক বয়সী শিশুদের কালোজিরা খাওয়ানোর অভ্যাস করলে তাড়াতাড়ি শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি ঘটবে। শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থতা এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও কালোজিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের কালোজিরার তেল সেবন করা হতে বিরত থাকুন। তবে বাহ্যিকভাবে তেল ব্যবহার করা যাবে।
মাথা ব্যথা দূর করতে:
মাথা ব্যথায় কপালে, উভয় চিবুকে ও কানের পার্শ্ববর্তী স্থানে দৈনিক ৩/৪ বার কালোজিরা তেল মালিশ করলে অনেক উপকার পাওয়া যাবে।
স্বাস্থ্য ভাল রাখতে:
প্রতিদিন সকালে মধুসহ কালোজিরা সেবন করলে স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও সকল রোগ মহামারী হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
হজমের সমস্যা দূরীকরণে:
হজমের সমস্যায় এক-দুই চা-চামচ কালিজিরা বেটে পানির সঙ্গে খেতে পারেন। এভাবে প্রতিদিন দু-তিনবার খেলে এক মাসের মধ্যে আপনার হজমশক্তি বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পেট ফাঁপা ভাবও দূর হবে।
লিভারের সুরক্ষায়:
লিভারের সুরক্ষায় ভেষজটি অনন্য। লিভার ক্যান্সারের জন্য দায়ী আফলাটক্সিন নামক বিষ ধ্বংস করতে কালিজিরা যথেষ্ট সহায়তা করে।
চুল পড়া বন্ধ করতে:
কালিজিরা খেলে চুল পর্যাপ্ত পুষ্টি পায়। ফলে চুল পড়া বন্ধ হয়ে যায়। আরো ফল পেতে চুলের গোড়ায় কালিজিরার তেল মালিশ করতে পারেন।
দেহের সাধারণ উন্নতিঃ
নিয়মিত কালোজিরা সেবনে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ হয় ও সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি সাধন করে। এছাড়া অরুচি, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস, জ্বর, শরীর ব্যথা, গলা ও দাতে ব্যথা, পুরাতন মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, খোসপঁচড়া, শ্বেতি, দাদ, একজিমা, সর্দি, কাশি, হাঁপানিতেও কালোজিরা অব্যর্থ ঔষধ হিসেবে কাজ করে। এটি মূত্র বর্ধক ও উচ্চরক্তচাপ হ্রাসকারক,গ্যসট্রিক আলসার প্রতিরোধক, ভাইরাস প্রতিরোধক, টিউমার এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক, ব্যকটেরিয়া এবং কৃমিনাশক, রক্তের স্বাভাবিকতা রক্ষাকারক, যকৃতের বিষক্রিয়ানাশক, এলার্জি প্রতিরোধক, বাতব্যথা নাশক।
অরুচি, উদরাময়, শরীর ব্যথা, গলা ও দাঁতের ব্যথা, মাইগ্রেন, চুলপড়া, সর্দি, কাশি, হাঁপানি নিরাময়ে কালোজিরা সহায়তা করে।
ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কালোজিরা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। চুলপড়া, মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা, অনিদ্রা, মুখশ্রী ও সৌন্দর্য রক্ষা, অবসন্নতা-দুর্বলতা, নিষ্কিয়তা ও অলসতা, আহারে অরুচি, মস্তিষ্কশক্তি তথা স্মরণশক্তি বাড়াতেও কালোজিরা উপযোগী।
জ্বর, কফ, গায়ের ব্যথা দূর করার জন্য কালোজিরা যথেষ্ট উপকারী বন্ধু। এতে রয়েছে ক্ষুধা বাড়ানোর উপাদান। পেটের যাবতীয় রোগ-জীবাণু ও গ্যাস দূর করে ক্ষুধা বাড়ায় এবং দেহের কাটা-ছেঁড়া শুকানোর জন্য কাজ করে। এছাড়া শরীরে সহজে ঘা, ফোড়া, সংক্রামক রোগ (ছোঁয়াচে রোগ) হয় না। তিলের তেলের সঙ্গে কালিজিরা বাঁটা বা কালোজিরার তেল মিশিয়ে ফোড়াতে লাগালে ফোড়ার উপশম হয়।
দাঁত ব্যথা দূরীকরণে:
দাঁতে ব্যথা অনভূত হলে কুসুম গরম পানিতে কালোজিরা মিশিয়ে সেই পানি দিয়ে কুলি করলে ব্যথা কমে যাবে। এটি জিহ্বা, তালু, দাঁতের মাড়ির জীবাণু মরতে সহায়তা করে।
শান্তিপূর্ণ ঘুমের প্রয়োজনে:
কালোজিরার তেল ব্যবহারে রাতভর প্রশান্তির নিদ্রা লাভ হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে কালোজিরা :
কালোজিরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত কালোজিরা খেলে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সতেজ হয়। এটি শরীরের যে কোন জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে দেহকে প্রস্তুত করে তোলে এবং সার্বিকভাবে স্বস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এক চামচ কালোজিরা অথবা কয়েক ফোটা কালোজিরার তেল ও এক চামচ মধুসহ প্রতিদিন সেবন করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে।
পারকিনসন্স রোগের প্রতিকারে:
কালোজিরায় থাইমোকুইনিন থাকে যা পারকিনসন্স ও ডিমেনশিয়ায় আক্রান্তদের দেহে উৎপন্ন টক্সিনের প্রভাব থেকে নিউরনের সুরক্ষায় বেশ কাজ করে।
চুলের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে
কালোজিরার তেল চুলের কোষ ও ফলিকলকে চাঙ্গা ও শক্তিশালী করে, ফলে এটি নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কালোজিরার তেল চুলের গোড়া শক্ত করে ও চুল পড়া কমায়।
কিডনির পাথর ও ব্লাডার
কালোজিরা উত্তমরূপে গুঁড়ো করে মধুর সাথে মিশ্রিত করে দুই চামচ মিশ্রণ আধাকাপ গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন আধাকাপ তেলসহ পান করতে হবে। কালোজিরার মিকচার মধুসহ দিনে ৩/৪ বার ১৫ ফোটা করে সেবন করতে পারেন।
চোখের ব্যথা দূর করতে:
রাতে ঘুমানোর আগে চোখের উভয় পাশে ও ভুরুতে কালোজিরা তেল মালিশ করুন এবং এককাপ গাজরের রসের সাথে কালোজিরা তেল একমাস সেবন করুন। নিয়মিত গাজর খেয়ে ও কালোজিরা মিকচার সেবন আর তেল মালিশে উপকার পাবেন।
উচ্চ রক্তচাপ:
যখনই গরম পানীয় বা চা পান করবেন তখনই কোন না কোন ভাবে কালোজিরা খাবেন। গরম খাদ্য বা ভাত খাওয়ার সময় কালোজিরা ভর্তা খান। এ উভয় পদ্ধতির সাথে রসুনের তেল সাথে নিন। সারা দেহে রসুন ও কালোজিরার তেল মালিশ করুন। কালোজিরা, নিম ও রসুনের তেল একসাথে মিশিয়ে মাথায় ব্যবহার করুন। ভালো মনে করলে পুরাতন রোগীদের ক্ষেত্রে এ কাজটি ২/৩ দিন পর পর করতে পারেন।
ডায়রিয়া:
মুখে খাবার স্যালাইন ও হোমিও ঔষধের পাশাপাশি এক কাপ দই ও বড় এক চামচ কালোজিরার তেল দিনে ২ বার সেবন করবেন তাহলে ডায়রিয়া হতে পরিত্রান পাবেন।
জ্বর:
সকাল-সন্ধ্যায় লেবুর রসের সাথে ১ চামচ কালোজিরার তেল পান করুন তাহলে জ্বর হতে পরিত্রাণ পাবেন।
স্নায়ুবিক উত্তেজনা
কফির সাথে কালোজিরা সেবনে স্নায়ুবিক উত্তেজনা দুরীভুত হয়।
উরুসদ্ধি প্রদাহ:
স্থানটি ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। পর পর ৩ দিন সন্ধ্যায় আক্রান্ত স্থানে কালোজিরা তেল লাগান এবং পর দিন সকালে ধুয়ে নিন তাহলে উরুসদ্ধি প্রদান হতে মুক্তি পাবেন।
আঁচিল:
হেলেঞ্চা দিয়ে ঘষে কালোজিরা তেল লাগান। হেলেঞ্চা মুল আরক মিশিয়ে নিলেও হবে। সাথে খেতে দিন হোমিও ওষুধ।
সতর্কতা:
গর্ভাবস্থায় ও দুই বছরের কম বয়সের বাচ্চাদের কালোজিরার তেল সেবন করা হতে বিরত থাকুন। তবে বাহ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
বিঃ দ্রঃ
কালোজিরায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ফলে কালোজিরার তেল ব্যবহার ও সেবন শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করে এবং রোগ মুক্ত রাখে। রাসুল (সঃ) বলেছেন, মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের মহৌষধ হলো কালোজিরা।
লেখকের শেষ কথা
কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আজকের এই পোস্টটিতে। আপনি যদি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে আমাদের এই পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে আশা করছি কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন। যদি আপনার ইচ্ছা থাকে আপনার জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করার তাহলে অবশ্যই বিষয়গুলো আপনাকে জানতে হবে।
আশা করি আমাদের এই পোস্টটি থেকে আপনি অনেক উপকৃত হয়েছেন। এতক্ষণ আমাদের সঙ্গে থাকার জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ এবং তথ্যবহুল পোস্ট যদি আপনি নিয়মিত পড়তে চান তাহলে আপনাকে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করতে হবে। আবার দেখা হবে নতুন কোন পোস্টে অবশ্যই সে পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
কালোজিরা সম্পর্কে আরও জানতে ক্লিক করুন